করোনার ভয়াবহতা নিয়ে ফেসবুক লাইভে যা বললেন নায়ক সাইমন (ভিডিও)

সাতকাহন রিপোর্ট
চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের বর্তমান করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে থেকে একটি ফেসবুক লাইভ করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক।

⁠বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিটে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক নিজের ফেসবুক আইডি থেকে এ লাইভটি করেন।

⁠ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমি আমার আম্মাকে নিয়ে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছি। আমার আম্মা করোন পজেটিভ হওয়ায় তিনি এখানে ভর্তি আছেন কেবিনে। আমি আম্মার সাথে সব সময় আছি এখানে।

⁠সাইমন বলেন, এখানে আসার পরে আশাপাশে দেখছি, প্রতিদিনই ৩/৪ জন করে মানুষ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। করোনার কারণে তারা মারা যাচ্ছেন। নতুন যে ভ্যারিয়েন্টটি এসেছে ভারত থেকে এটার কারণে এখানে প্রায় ৭২ শতাংশ রোগী এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত।

⁠এই হাসপাতালে নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে সাইমন বলেন, এখানে ডাক্তার আসলে খো৭জে পাওয়া মুশকিল। ডাক্তার কেন ভাই? কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায় না। কেউ থাকে না। ধরেন, আমি যে পেশেন্ট না, পেশেন্টের সাথে আছি। আম্মার সাথে আছি। সেখানে আমার কাছ থেকেও মানুষ অনেক দূরে থাকছে। কারণ আমি করোনা পেশেন্টের সঙ্গে আছি। এটা যে কি একটা ভয়াবহতা আর এটা যে কি একটা সিচুয়েশন! আপনারা যারা এখনও হাসপাতালে যাননি, তারা বুঝবেন না। কারণ আমি এই হাসপাতালে আসার আগে আমিও বুঝিনি যে কি অবস্থা!

⁠কিশোরগঞ্জের মতো একটা জায়গায় এভাবে বেড়ে চলেছে। আর আমি ঢাকা থাকতে কিন্তু বুঝিনি। টিভিতে সংবাদ যখন দেখতাম, মনে হতো ব্যাপারটা কি রকম বা কি? এখন আমি প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে ফিল করছি। মৃত্যু অনেক যন্ত্রণার নিশ্চয়। কিন্তু আমি যেটা দেখছি, একটু পর পর লাশ বেরুচ্ছে এ রকম একটা অবস্থা। একটু পর পর মানে প্রতিদিন ৩/৪ জন মানুষ একটা জায়গা থেকে চলে যাওয়া, সেটা আসলে যখন আমি দেখছি মনে হচ্ছে যে, অপেক্ষা করছি আবার হয়তো কেউ বের হয়ে চলে যাবে। এ রকম একটা সিচুয়েশন, সেখানে আমরা যার তার মতো লকডাউন মানছি না। কোন ধরনের কোন কিছুই মানছি না। যে যার মতো চলছি। এটা যে কি বিপদের কারণ হতে চলেছে! সারা দেশে একদম, সব জায়গায় বিমেষ করে ঢাকার বাইরে এখন অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা সেটা হয়তো জানছি, যারা হয়তো হাসপাতালের বাইরে আছি, কিন্তু মানছি না।

⁠যখন আপনার ঘরে একজন পেশেন্ট চলে আসবে, আপনার খুব কাছের কেউ। তখন বুঝবেন আসলে মানাটা কতটা জরুরী। আপনারা এখনও যারা অহেতুক ঘোরাঘুরি করছেন বাহিরে, আপনারা এভাবে ঘুরবেন না।

⁠দেখুন ভাই কেউ নেই। একটা হাসপাতাল। ভেতরে অনেক রোগী আছেন। রোগীদের আশপাশে দেখার জন্য কেউ নেই। মানে সবাই যার যার মতো ব্যস্ত, কেউ আসছে না। এরকম একটা জায়গা, আপনি ভাবতে পারবেন না যে কি ভয়াবহ সিচুয়েশন।

⁠অবশ্যই আপনাকে ঘরে থাকতে হবে। সারাক্ষণ মাস্ক পরে থাকতে হবে। মানুষের কাছাকাছি যাওয়া যাবে না। যতদিন না পর্যন্ত আমাদের দেশ থেকে এই করোনা না যাচ্ছে সতর্ক তো থাকতেই হবে সরকার যে লকডাউন দিয়েছে সেটাকে আপনারা আমরা সবাই মেনে চলি। কারণ এখানে আসার আগে আমি বুঝিনি, এটার ভয়াবহতা আসলে কতটা কঠিন বা কতটা বাস্তবিক। কি বলবো এখন কিছু বলার নাই। আপনাদেরকে এতটুকু বলব, খুব সাবধান হয়ে যান, সাবধানে থাকুন। বাসা থেকে বের হবেন না। বাসা থেকে বের হওয়ার মতো সিচুয়েশন নেই।

⁠সাইমন তার মায়ের বর্তমান অবস্থা জানাতে গিয়ে বলেন, দমবন্ধ হয়ে যায়। মা মাঝে মাঝে প্রচুর কাশে। আবার থেমে যায় আল্লাহ রহমতে। এখন কিছু ভালর দিকে আবার ভয়ও আছে। একদম নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত কোন কিছু বলা যাচ্ছে না।

⁠সব কিছু মিলিয়ে আমি আমার জায়গা থেকে আমার মনে হয়েছে যে, আপনাদের সঙ্গে ব্যপারটা শেয়ার করি। অবশ্যই আপনার বেশি সাবধানতা অবলম্বন করুন। এখানে আসলে সাবধানতা ছাড়া কিছুই করার নেই। এখানে আসলে সবাই তার জীবনকে বাাঁনোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর ডাক্তারাও চেষ্টা করে যাচ্ছেন যেন প্যাশেন্ট দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারে। কিন্তু সিচুয়েশনটা খুবই কঠিন। আপনারা ফিল করার চেষ্টা করুন। না হলে আমি এভাবে অতঙ্কের কথা বা বর্তমান সিচুয়েশনর কথা আপনাদেরকে বলতাম না।

⁠সবাই নিরাপদে থাকবেন, সবাই সুস্থ থাকবেন। এবং করোনাকে ভয় নয় জয় করতে হবে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। ইনশাআল্লাহ আমাদের দেশসহ সারা বিশ্ব থেকে করোনা চলে যাবে। আল্লাহ আমাদের উদ্ধার করুন। আমাদের সবাইকে সুস্থ রাখুন, সুন্দর রাখুন। আপনার সবাই ভাল থাকবেন আমার আম্মার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ হাফেজ।

⁠উল্লেখ্য, চিত্রনায়ক সাইমন সাদিকের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের কলাপাড়া গ্রামে।