হিজল তমালের ছায়া থেকে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

সাতকাহন ডেস্ক

হিজল তমালের ছায়া ঘেরা কামালপুর থেকে বঙ্গভবনে ফিরে গেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুরের পৈত্রিক নিবাসে তিনদিন রাত্রিযাপনের পর আজ বৃহস্পতিবার বিকাল চারটার দিকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার যোগে বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করেন তিনি।

চার দিনের সরকারি সফরে ২২ আগস্ট বিকালে তিনটি হাওড় উপজেলা নিয়ে গঠিত নিজ নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ-০৪ ( ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম)এর মিঠামইনে আসেন রাষ্ট্রপতি। এ উপজেলা সদরের কামালপুর গ্রামেই তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি বিজড়িত পৈত্রিক নিবাস।

সফরকালীন সময়ে এ তিন উপজেলার চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, নির্মাণাধীন সেনানিবাস পরিদর্শনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

জীবনের দীর্ঘ সময় রাজনীতি আর মা-মাটি ও মানুষের সঙ্গে মেলামেশার সহজাত অভ্যাসের কারণে বারবার তিনি শেকড়ের টানে ফিরে আসেন ভাটিকন্যাখ্যাত প্রাণের শহর কিশোরগঞ্জে। হাওর পাড়ের কাদামাটি-জলে খুঁজে ফিরেন অতীত দিনের স্মৃতি । আর এ অকৃত্রিম ভালোবাসারই স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতাপূর্বকালে তিনি ‘ভাটির শার্দুল’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।

দুরন্ত শৈশব-কৈশোর, যৌবন ও রাজনৈতিক জীবনের হাজারও স্মৃতিবিজড়িত কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওড় উপজেলার ঘোড়াউত্রা নদীপাড়ের কামালপুর গ্রামের পৈতৃক ভিটার হিজল-তমাল তরুর ছায়ায় এসে যেন প্রাণ ফিরে পান তিনি। এ মাটিতেই চির নিদ্রায় শায়িত আছেন তার মা তমিজা বেগম ও বাবা মো. তায়েব উদ্দিন।

১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি এ দম্পতির ঘর আলোকিত করে পৃথিবীর মুখ দেখেছিলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। দীর্ঘ ৫৪ বছরের রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন ও সুখ-স্মৃতি জড়িয়ে থাকা নরসুন্দা, ধনু ও ঘোড়াউত্রা নদী পাড়ের এসে তিনি আবেগাপ্লুুত ও স্মৃতিকাতর হয়ে উঠেন। খুঁজে ফিরেন পুরনো দিনের বন্ধু-বান্ধব ও শুভার্থীদের সান্নিধ্য। অপলক নেত্রে দেখেন কাঁদা মাটি জলে লুকিয়ে থাকা দূরন্ত শৈশব -কৈশোরের স্মৃতিমাখা অমলিন জলছবি। দীর্ঘ চুয়ান্ন বছরের রাজনৈতিক জীবনে অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ এ নির্বাচনী এলাকার পথ-ঘাট, হাওর-নদী ও প্রান্তর ঘুরে বেড়িয়েছেন।

এ হাওড় জনপদের মানুষের হাসি-কান্নার সঙ্গী ছিলেন তিনি। সহজ-সরল প্রাণ মানুষের সমর্থন নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাত-সাতবার বিজয়ের মুকুট পরেন তিনি। হন বিরোধী দলের উপনেতা, ডেপুটি স্পিকার ও স্পিকার। সর্বশেষ একাধিক মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হওয়ার রেকর্ডও বগলদাবা করেছেন ভাটির শার্দূল রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য সর্বশেষ তার সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে স্বাধীনতা পদকের হিরন্ময় পালক।