বিউটি অব পলিটিক্স খ্যাত নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সাতকাহন রিপোর্ট

"বিউটি অব পলিটিক্স" খ্যাত নেতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনপ্রশাসন মন্ত্রী   সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আজ তৃতীয় মৃত্যু বার্ষিকী। ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি ৬৮ বছর বয়সে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

দিনটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে আওয়ামী লীগ। কর্মসূচি পালিত হবে তার ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলামের বারিধারার বাসায়।

এছাড়া সৈয়দ আশরাফের নিজ জেলা কিশোরগঞ্জেও নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল এবং সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের বীর দামপাড়া গ্রামের বাড়িতে কাঙালিভোজ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম  ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি বীর দামপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রীয় কারাগারে শহীদ জাতীয় চার নেতার অন্যতম নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ পুত্র।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তদানীন্তন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহপ্রচার সম্পাদক ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ছিলেন। আবদুল জলিল গ্রেফতার হলে সৈয়দ আশরাফ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময় আওয়ামীলীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অসংখ্য নেতাকর্মী সেনা শাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে গ্রেফতার হলে তিনি মরহুম প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে দলের কাণ্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন এবং দলকে অন্ধকার গহ্বর থেকে টেনে তুলে আলোর সন্ধান দেন। পরে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্য তিন জাতীয় নেতার সঙ্গে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামকে নৃশংসভাবে হত্যার পর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যুক্তরাজ্যে চলে যান। লন্ডনের হ্যামলেট টাওয়ারে বসবাস শুরু করেন। লন্ডনে বসবাসকালে তিনি বাঙালি কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। সে সময় তিনি লন্ডনে বাংলাদেশ যুবলীগের সদস্য ছিলেন। সৈয়দ আশরাফ ফেডারেশন অব বাংলাদেশি ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের শিক্ষা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯৯৬ সালে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম  দেশে ফিরে আসেন। সেই বছরই তিনি তার শহীদ পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের কিশোরগঞ্জ-১ সদর আসন থেকে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০১ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভা গঠিত হলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পুনরায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৫ সালের ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে দফতরবিহীন মন্ত্রী করেন। এক মাস এক সপ্তাহ দফতরবিহীন মন্ত্রী থাকার পর ১৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নিজের অধীনে রাখা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন তাকে। ব্যক্তিগত জীবনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ব্রিটিশ ভারতীয় বংশোদ্ভূত শীলা ঠাকুরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। শীলা ইসলাম লন্ডনে শিক্ষকতা করতেন। ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রীমা ইসলাম নামে তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। তিনি লন্ডনের এইচএসবিসি ব্যাংকে চাকরি করছেন।

স্বচ্ছ সুন্দর মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তিনি বিউটি অব পলিটিক্স হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত