নিকলী হাওরে পর্যটকবাহী নৌকায় লাইফ জ্যাকেট রাখার নির্দেশ

নিকলী প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীর পর্যটকবাহী সকল নৌকায় আবশ্যিকভাবে লাইফ জ্যাকেট বা পানিতে জীবনরক্ষাকারী উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে করতে নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসসাদিকজামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিকলী উপজেলার সব নৌযানমালিক, চালক ও মালিক সমিতির অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ‘পর্যকদের যাত্রা নিরাপদের নিমিত্তে প্রত্যেকটি নৌকায় আবশ্যিকভাবে লাইফ জ্যাকেট বা পানিতে জীবনরক্ষাকারী উপকরণের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘সংশ্লিষ্ট সকল নৌযান মালিক, চালক ও নৌযান সমিতিকে উক্ত নির্দেশনা যথাযথ প্রতিপালন করার জন্য অনুরোধ করা হল। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, ১০ সেপ্টেম্বর ছুটির দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিইউএফএ সংগঠনের উদ্যোগে শিশু ও নারীসহ ৫০ জনের একটি দল কিশোরগঞ্জে হাওরে ঘুরতে আসে। সকালে জেলার নিকলী বেড়িবাঁধ থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তারা মিঠামইনের হাওরে ঘুরতে যান।

মিঠামইন অলওয়েদার সড়কসহ হাওরের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিকলীতে ফেরেন তারা। ঢাকায় ফেরার জন্য গাড়িতে উঠার সময় তারা জানতে পারেন তাদের সঙ্গে থাকা সৈয়দ জাহিরুর রহমান সাগর (৪৫) নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এ সময় তারা নিকলী থানায় বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান নিকলী থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন। সাগরকে উদ্ধারে হাওরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান পায়নি তারা। পরে রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সাগরের মরদেহ জেলেরা ছাতিরচরের কাছে হুলাবারিয়ার চরে দেখতে পায়।

গ্রামপুলিশের সহায়তায় নিকলী থানা পুলিশ সাগরের মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়া চলতি বছরে কিশোরগঞ্জের হাওরের পানিতে ডুবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও ব্যবসায়ী সৈয়দ জাহিরুর রহমান সাগরসহ ছয় পর্যটকের প্রাণ গেছে।