না ফেরার দেশে লেখক ফরহাদ খান

সাতকাহন ডেস্ক
ফরহাদ খান

লেখক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ খান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আজ শুক্রবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

ফরহাদ খান বাংলা একাডেমির সাবেক পরিচালক। তাঁর জন্ম ১৯৪৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর। পৈতৃক নিবাস কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা গ্রাম।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) ও এমএ করেন ফরহাদ খান। ১৯৭০ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।

ফরহাদ খান ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমিতে যোগ দেন। তিনি বাংলা একাডেমির ভাষা-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পত্রিকা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। ২০০২ সালে এই পদ থেকে অবসরে যান তিনি।

জার্মানির ডয়েচে ভেলে রেডিওর বাংলা বিভাগের সম্পাদক হিসেবে ফরহাদ খান তিন বছর (১৯৮৮-১৯৯১ সাল) ডেপুটেশনে কাজ করেন।

পত্রপত্রিকায় লেখালেখির পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনে ভাষাবিষয়ক অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন ফরহাদ খান। তিনি বেতার ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

ফরহাদ খানের গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—প্রতীচ্য পুরাণ, শব্দের চালচিত্র, বাংলা শব্দের উৎস অভিধান, চিত্র ও বিচিত্র, হারিয়ে যাওয়া হরফের কাহিনি, বাঙালির বিবিধ বিলাস, নীল বিদ্রোহ (যৌথ অনুবাদ), ব্যারন মুনশাউজেনের রোমাঞ্চকর অভিযান, গল্প শুধু গল্প নয় (শিশুতোষ গল্প)। বাংলা একাডেমি ছোটদের অভিধানসহ কয়েকটি বই সম্পাদনায় তিনি যুক্ত ছিলেন।

প্রবন্ধ সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ফরহাদ খান ‘সাহিত্যিক মোহম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯’ পান।